জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাস ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি জানিয়েছে, ভাড়া প্রতিকিলোমিটারে সর্বোচ্চ ১৫ পয়সা বাড়ানো যেতে পারে—এর বেশি হলে তা অযৌক্তিক হবে। এই দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-তে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাস ও লঞ্চ মালিকদের একতরফা ভাড়া বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধ করতে হবে এবং যাত্রীদের স্বার্থ বিবেচনায় যৌক্তিক হারে ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘন করে একচেটিয়া ভাড়া বাড়ানোর যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করা হবে। এ ক্ষেত্রে সব পক্ষের অংশগ্রহণে গণশুনানির মাধ্যমে ভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব দেন তিনি এবং সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। নতুন দামে অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা এবং ডিজেল ১১৫ টাকা প্রতি লিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির পরপরই পরিবহন খাতে ভাড়া বাড়ানোর আলোচনা শুরু হয়েছে, যদিও তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
পূর্ব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ২০২২ সালে ডিজেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস ভাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফলে এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।
বর্তমানে নগর পরিবহনে বাস ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪০ পয়সা এবং দূরপাল্লায় ৫১ আসনের বাসে ২ টাকা ১২ পয়সা করে আদায় করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন খাতে পড়লেও তা যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়—এমনটাই দাবি যাত্রী অধিকার সংগঠনগুলোর।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.