যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ঘিরে আইনি সহায়তার আবেদন ২০২৫ সালেও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল, যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আন্দোলনকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
‘প্যালেস্টাইন লিগ্যাল’ নামের একটি সংগঠনের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালে তারা মোট ১,১৩১টি আইনি সহায়তার আবেদন পেয়েছে। যদিও ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ২,১৮৪—যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের মুখে পড়ে।
সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ডিমা খালিদি বলেন, নানা বিধিনিষেধ সত্ত্বেও ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থী ও কর্মীরা ন্যায়বিচারের পক্ষে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন, যদিও তাদের অনেকেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনি সহায়তার অধিকাংশ আবেদন এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে। এছাড়া অভিবাসন ও সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়েও ১২২টি আবেদন জমা পড়ে। ফিলিস্তিন ইস্যুতে সক্রিয় থাকার কারণে লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষ থেকে ৮৫১টি আবেদন এবং আন্দোলন পরিচালনার আইনি নির্দেশনা চেয়ে আরও ২৮০টি আবেদন করা হয়েছে।
২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এই অভিযোগের হার প্রায় ৩০০ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকেই এই প্রবণতা বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি এসব আন্দোলনকে ইহুদিবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ক্ষমতায় এসে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেন।
এ পর্যন্ত কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য, যেখানে আন্দোলন দমনে পুলিশের হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনের সঙ্গে বড় অঙ্কের আর্থিক সমঝোতা করে এবং কিছু নীতিমালায় পরিবর্তন আনে।
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছে, এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থী বহিষ্কার, সাময়িক বরখাস্ত বা ডিগ্রি বাতিলের মতো শাস্তির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে অভিবাসন আইনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে, ২০২৫ সালে কিছু আইনি সাফল্যও এসেছে। আদালত কয়েকটি মামলায় ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের অধিকারকে সমর্থন দিয়েছে এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেও রায় দিয়েছে।
প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়, ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অধিকার রক্ষা করা না গেলে মৌলিক অধিকারগুলোও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.