ইসরায়েলের অব্যাহত অবরোধ ও চিকিৎসা সরবরাহ বন্ধ থাকায় গাজার হাসপাতালগুলো ভয়াবহ মানবিক সংকটে পড়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বারশ জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রীর ঘাটতিতে হাসপাতালগুলোর অবস্থা এখন “ভয়াবহ ও মর্মান্তিক”।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রায় ৭৫ শতাংশই বর্তমানে অনুপলব্ধ। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, অ্যানেসথেটিক, গজ, ডায়ালাইসিস সরঞ্জামসহ বিদ্যুৎ ও জেনারেটরের সংকট রোগীদের জীবন বাঁচানোর পথ রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ চিকিৎসা সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল—যা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষায় এক চলমান ও গভীর স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
আল-বারশ বলেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পর গত তিন দশকে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি। টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে গাজার প্রায় সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র আক্রমণের শিকার হয়েছে। এতে অন্তত ১২৫টি স্বাস্থ্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩৪টি হাসপাতাল। প্রাণ হারিয়েছেন ১,৭০০-এর বেশি স্বাস্থ্যকর্মী। এখনো ৯৫ জন ফিলিস্তিনি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে আটক করে রেখেছে ইসরায়েল।
আল-বারশ জানান, শুধু আহতরাই নয়—অন্যান্য রোগীরাও চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রায় ৪ হাজার গ্লুকোমা রোগী স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কায় আছেন। অস্বাস্থ্যকর আশ্রয়ে থাকা প্রায় ৪০ হাজার গর্ভবতী নারীর স্বাস্থ্য ও অনাগত শিশুর জীবনও ঝুঁকিতে।
এ ছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার শিশু অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। বিদেশে চিকিৎসার জন্য অপেক্ষমাণ রোগীদের তালিকাও দীর্ঘ। অনুমোদন প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১,১৫৬ জন রোগী চিকিৎসার অনুমতি না পেয়ে মারা গেছেন।
বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার রোগী গাজা থেকে বাইরে চিকিৎসার অপেক্ষায় আছেন, যাদের মধ্যে সাড়ে ৩ হাজারের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদের মধ্যে অন্তত ৪,৩০০ জন শিশু।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ দ্রুত সীমান্ত খুলে চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের সতর্কবার্তা—আর দেরি হলে আরও বহু প্রাণ ঝরে যাবে।
উল্লেখ্য, অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭১ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।