ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় আরেকটি তেলবাহী ট্যাংকার ধাওয়া করছে যুক্তরাষ্ট্র। আল জাজিরাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
রোববারের এই অভিযানটি এমন এক সময় চালানো হলো, যখন এর একদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড ভেনেজুয়েলার উপকূলে দ্বিতীয় একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে। গত দুই সপ্তাহে এটি দ্বিতীয় ঘটনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ঘোষিত ‘ব্লকেড’-এর আওতায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ধাওয়া করা জাহাজটি ভেনেজুয়েলার তথাকথিত ‘ডার্ক ফ্লিট’-এর অংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চেষ্টা করছে। জাহাজটি ভুয়া পতাকা ব্যবহার করছিল এবং এর বিরুদ্ধে বিচারিক জব্দের আদেশ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকলেও এখন পর্যন্ত এতে তল্লাশি চালানো হয়নি। ব্রিটিশ সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ডের তথ্যমতে, জাহাজটির নাম ‘বেলা-১’, যা একটি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ গত বছর এটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করে এবং জাহাজটির সঙ্গে ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলে।
তথ্য অনুযায়ী, রোববার ভেনেজুয়েলার দিকে যাওয়ার সময় বেলা-১ খালি ছিল। তবে অতীতে এটি ভেনেজুয়েলার তেল চীনে পরিবহন করেছে এবং একসময় ইরানি অপরিশোধিত তেল বহন করেছিল বলেও জানায় রয়টার্স।
এদিকে ভেনেজুয়েলার তেল খাতকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযান নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ভেনেজুয়েলা এসব জাহাজ জব্দকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। দেশটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সরকার উৎখাত করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল মজুত দখল করতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এই পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল একে “যুদ্ধের পূর্বাভাস ও উসকানি” বলে মন্তব্য করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করছে।