আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) আবারও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো তদন্ত শুরু হলে ওয়াশিংটন কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড এবং গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের বিরুদ্ধে তদন্ত না করার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব দাবি মানতে হলে আইসিসির প্রতিষ্ঠা দলিল সংশোধন প্রয়োজন, যা দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য দেশের সম্মতি ছাড়া সম্ভব নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল।
দীর্ঘদিন ধরে আইসিসিকে মার্কিন সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে সেই অবস্থান আরও কঠোর করল ট্রাম্প প্রশাসন।
মার্কিন কর্মকর্তা আরও জানান, আইসিসি যদি ওয়াশিংটনের দাবি না মানে, তাহলে শুধু কর্মকর্তাদের ওপর নয়, আদালতকেও সরাসরি নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। এতে আইসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রম—কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ, ব্যাংক লেনদেন—সবকিছুই বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সম্প্রতি ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন অভিযানে ৮০ জনের বেশি নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ হয়েছিল কি না—তা নিয়েও কংগ্রেসে তদন্ত শুরু হতে পারে। মার্কিন প্রশাসনের আশঙ্কা, ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হলে ২০২৯ সালে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি বছর ইতোমধ্যেই আইসিসির ৯ কর্মকর্তা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞা দিলে আইসিসির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
তবে রোম সংবিধি সংশোধনের জন্য ১২৫ সদস্য দেশের দুই-তৃতীয়াংশের সম্মতি লাগবে—যা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।