ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে—এমন অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহুবার উঠেছে। এবার নতুন করে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্যপ্রাপ্তির বিষয়টি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর মার্কিন কর্মকর্তারা প্রমাণ পান যে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা গাজায় তাদের সেনাদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের বিপজ্জনক টানেলে পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন—যে টানেলগুলোতে বিস্ফোরক থাকার আশঙ্কা ছিল।
দুই সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, এই তথ্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয় এবং তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের শেষ দিকের সপ্তাহগুলোতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সেটি বিশ্লেষণ করে। আন্তর্জাতিক আইনে যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক ব্যক্তিকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ইসরায়েলের মানবঢাল ব্যবহার নিয়ে আগেও একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও এবার যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন প্রকাশ বিরল ঘটনা বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।
তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কোনোভাবেই বেসামরিক নাগরিককে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার বা জোরপূর্বক সামরিক অভিযানে যুক্ত করা নিষিদ্ধ করেছে।” পাশাপাশি, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার তদন্ত করছে ইসরায়েলের সামরিক পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ।
এর আগে, ২০২৪ সালের জুনে আল জাজিরা যাচাইকৃত এক ভিডিওতে দেখা যায়, জেনিন শহরে অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনারা এক আহত ফিলিস্তিনি, মুজাহিদ আজমিকে সামরিক জিপের সামনে বেঁধে নিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনাকে “বিরক্তিকর” ও “ইসরায়েলি প্রোটোকলের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন” হিসেবে বর্ণনা করেছিল।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে ইসরায়েলকে সম্প্রতি ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। জাতিসংঘের কমিটি এগেইনস্ট টর্চার জানায়, হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে ফিলিস্তিনিদের ওপর “পদ্ধতিগত ও ব্যাপক নির্যাতন” চালানো হয়েছে বলে তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে।
জেনেভায় অনুষ্ঠিত দুই দিনের শুনানিতে ২৮ জন ইসরায়েলি কর্মকর্তা ১০ সদস্যের কমিটির সামনে হাজির হন। প্রশ্নের জবাবে তারা স্বীকার করেন যে, ইসরায়েলের নিজস্ব কোনো “নির্যাতনবিরোধী আইন” নেই এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিক চুক্তির নিয়মও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয় না।
কিছু অভিযোগ অস্বীকার করলেও, একাধিক ঘটনায় ইসরায়েলি প্রতিনিধি দল “আত্মরক্ষার প্রয়াস” বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন বলছে, ইসরায়েলের কারাগার থেকে ফেরত আসা অনেক ফিলিস্তিনি বন্দীর দেহে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটি চলতি নভেম্বরের শেষে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।