রাশিয়ার ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। দেশটির দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন এখন প্রায় ‘শূন্যের কোঠায়’। ফলে দেশজুড়ে দৈনিক ৮ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলছে।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার মাত্রা কয়েকগুণ বেড়েছে। রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, ট্রান্সমিশন লাইন ও জ্বালানি ডিপো ধ্বংস হয়ে গেছে।
ফলে কিয়েভ, নিপ্রোপেত্রভস্ক, দোনেৎস্ক, খারকিভ, পলতাভা, চেরনিহিভ ও সুমি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ইউক্রেনার্গো, দেশটির রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ সংস্থা, জানিয়েছে— “বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যত বন্ধ। নাগরিকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।”
ইউক্রেনের জ্বালানি উপমন্ত্রী ভিতলানা গ্রিনচুক বলেন, “শত্রুদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এমন বিস্তৃত হামলা আমরা আগে দেখিনি।”
তিনি আরও জানান, গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে কৌশলগতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে— যাতে শীত মৌসুমে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ভোরোনেজ ও বেলগরোদ শহরে বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
রাশিয়ার স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হামলায় বৈদ্যুতিক স্থাপনা ও সাবস্টেশন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার ভোরে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৪৪টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে এবং জাপোরিঝিয়ার রিবন এলাকায় নতুন করে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
জ্বালানি সরবরাহ ভেঙে পড়ায় হাসপাতাল, পানীয় জল সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত পুনরুদ্ধার না হয়, তবে ইউক্রেনের নাগরিক জীবনে মানবিক সংকট আরও গভীর হবে।