যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, প্রতিদিন প্রায় ৭০০টি ট্রাক মানবিক সহায়তা ও বাণিজ্যিক পণ্য নিয়ে গাজায় প্রবেশ করছে। তবে এই সংখ্যা নিয়ে ফিলিস্তিনি প্রশাসন ও ত্রাণ সংস্থাগুলো তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। তারা বলছে, বাস্তবে সহায়তার প্রবাহ অনেক কম এবং ইসরায়েল ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষুধা তৈরি করছে’।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডিলান জনসন আল জাজিরাকে জানান, অক্টোবর ১০ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫,০০০ ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন,
“যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬৭৪টি ট্রাক গাজায় ঢুকছে। মানবিক সহায়তাকর্মীরা ইতোমধ্যে দেড় মিলিয়নের বেশি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে পেরেছেন।”
জনসনের দাবি অনুযায়ী, গাজায় খাদ্য উৎপাদন ৮২ শতাংশ বেড়েছে, এবং “ফেব্রুয়ারির পর প্রথমবারের মতো ডিম পাওয়া যাচ্ছে”। তিনি বলেন,
“আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মানবিক উদ্যোগগুলোর একটি চালু করেছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন গাজার জনগণকে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সহায়তা করছে।”
ফিলিস্তিনি ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, বাস্তবে গড়ে প্রতিদিন মাত্র ১৭০টি ট্রাক প্রবেশ করছে—যা চুক্তির এক-চতুর্থাংশেরও কম।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪,৪৫৩টি ট্রাক ঢুকতে পেরেছে, যেখানে প্রতিশ্রুতি ছিল ১৫,৬০০টি ট্রাকের।
তারা অভিযোগ করেছে—
“এই অল্প পরিমাণ পণ্য ন্যূনতম মানবিক প্রয়োজনীয়তার অনেক নিচে।”
অফিসটি আরও জানিয়েছে, ইসরায়েল ৩৫০টির বেশি মৌলিক খাদ্যপণ্য যেমন—ডিম, মাংস, সবজি, চিজ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার নিষিদ্ধ করেছে, অথচ সফট ড্রিংক, চকলেট, চিপসের মতো বিলাসপণ্য অনুমতি দিচ্ছে।
তাদের ভাষায়—
“এটি এক ধরনের ‘খাদ্য অস্ত্রনীতি’, যা বেসামরিক জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল।”
ডিলান জনসন দাবি করেন, গাজায় প্রতিদিন ১.৭ কোটি লিটার (১৭,০০০ ঘনমিটার) বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, যা উত্তর গাজায় পানীয় জলের সরবরাহ ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। তিনি বলেন,
“এটি কেবল শুরু, এখনো অনেক কাজ বাকি।”
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয় (OCHA) জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে—পরিবারগুলো দিনে দুই বেলা খাবার পাচ্ছে, যেখানে জুলাইয়ে তারা এক বেলাই খেতো।
তবে উত্তর গাজায় পরিস্থিতি এখনো ‘বিপর্যয়কর’।
জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন,
“সহায়তা প্রবেশ কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু মানুষের জরুরি চাহিদা এখনো ভয়াবহভাবে পূরণ হয়নি।”
এদিকে, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) জানিয়েছে, গাজায় খাদ্য সরবরাহ এখনো প্রয়োজনীয় চাহিদার অর্ধেকেরও কম এবং উত্তর দিকের সীমান্ত পথগুলো এখনো বন্ধ কেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি ইসরায়েল।
যুক্তরাষ্ট্র যেখানে গাজায় ‘ঐতিহাসিক সহায়তা উদ্যোগ’-এর কথা বলছে, সেখানে ফিলিস্তিন বলছে, বাস্তবে চলছে ‘প্রণীত দুর্ভিক্ষ নীতি’।
মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, সহায়তার প্রবাহ বাড়ানো না গেলে গাজায় খাদ্য ও ওষুধ সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।