ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তাইওয়ানের ভাইস প্রেসিডেন্ট সিয়াও বিখিমের ভাষণ দেয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন, যা তাদের মতে ‘এক চীন নীতি’র সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বেইজিং সতর্ক করে জানিয়েছে, এমন পদক্ষেপের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ভাষণের পরদিনই তাইওয়ান অভিযোগ করেছে যে, চীনের অন্তত ১০টি যুদ্ধবিমান তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছে, পাশাপাশি ১০টি নৌযান প্রণালী ঘিরে চক্কর দিয়েছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ৪টি চীনা যুদ্ধবিমান তাইওয়ান প্রণালীর মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে একটি সংবেদনশীল সীমা হিসেবে বিবেচিত।
এ ঘটনায় তাইওয়ান পাল্টা টহল দেয় এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করে। এর আগে শনিবারও চীনের ১৮টি যুদ্ধবিমান ও ৭টি নৌযান তাইওয়ানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল বলে দাবি করে তাইপে।
গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইন্টার-পার্লামেন্টারি অ্যালায়েন্স অন চায়না (IPAC) সম্মেলনে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট সিয়াও বিখিম।
তিনি বলেন, “তাইওয়ান শুধু টিকে থাকার জন্য নয়, বরং গণতন্ত্র বিকাশের জন্যও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
বিখিমের এই বক্তব্য ছিল ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তাইওয়ানের কোনো উচ্চপর্যায়ের নেতার প্রথম ভাষণ, যেখানে তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার আহ্বান জানান এবং চীনের ‘হুমকি’র মুখে তাইওয়ানের গণতন্ত্র রক্ষায় সহায়তা কামনা করেন।
বেইজিং জানিয়েছে, এই সফর ও ভাষণ এক চীন নীতির পরিপন্থী এবং এটি চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সামিল। চীন সতর্ক করেছে, এমন কার্যক্রম চীন-ইইউ সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।