দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে আরও এক ফিলিস্তিনি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতের নাম আবদুল রহমান দারাওশা (২৬)। শনিবার রাতে পশ্চিম তীরের তুবাস শহরের দক্ষিণে ফার’আ শরণার্থী শিবিরে অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনারা গুলি চালালে তিনি নিহত হন।
ফিলিস্তিনি সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা হঠাৎ শিবিরে প্রবেশ করে প্রবল গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ দারাওশাকে প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট-এর অ্যাম্বুলেন্সে করে তুবাস সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুধু তুবাস নয়, একই রাতে ইসরায়েলি বাহিনী জেনিন, রামাল্লাহ এবং পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরের এলাকাতেও অভিযান চালায়।
অন্যদিকে, রবিবার সকালে প্রায় ৫০ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী (settlers) পূর্ব জেরুজালেমের কাছে জাবা গ্রামে একটি বেদুইন সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালায়। এতে অন্তত ৭ জন ফিলিস্তিনি আহত হন এবং বসতিগুলোর সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা হয়।
এছাড়া হেবরনের দক্ষিণের উম্ম আল-খায়ের গ্রামেও বসতি স্থাপনকারীদের আরেকটি হামলায় একজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (OCHA) জানায়, গত অক্টোবর মাসে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার সংখ্যা ছিল ২৬০টিরও বেশি, যা ২০০৬ সালের পর সর্বোচ্চ। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন আটটি হামলা ঘটেছে, যার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফিলিস্তিনি নাগরিকরা আহত হয়েছেন বা সম্পত্তি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
গত দুই বছরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ১,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের হাতে নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলায় ৪৩ জন ইসরায়েলি, যার মধ্যে সেনা সদস্যও রয়েছেন, নিহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি সরকারি তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দখলকৃত পশ্চিম তীরে এভাবে সহিংসতা বাড়তে থাকলে পুরো অঞ্চল নতুন এক মানবিক সংকটে পড়তে পারে।