আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন শুরু হবে এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ভোটের তারিখ ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)—এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রেস সচিব বলেন,
“আমরা বারবার একটাই কথা বলছি—ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের তারিখ ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন, সম্ভবত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তারা তা জানাবে।”
তিনি আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন যে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।
প্রেস সচিব জানান, পোস্টাল ভোটের জন্য একটি বিশেষ অ্যাপ তৈরি করবে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি, নির্বাচনের আগের ও পরের ৭২ ঘণ্টায় কীভাবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন,
“যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব রোধে দুটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানান শফিকুল আলম।
এছাড়া ডিজইনফর্মেশন প্রতিরোধে একটি আলাদা টিম কাজ করবে এবং ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও এ বিষয়ে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা বাহিনী সম্পর্কে তিনি জানান,
“সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সাড়ে ৯২ হাজারের মতো সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন। এর মধ্যে ৯০ হাজার সেনা ও বাকিরা নৌবাহিনীর সদস্য। এছাড়া আনসার সদস্যরাই সর্বাধিক দায়িত্ব পালন করবেন।”
নির্বাচন চলাকালে পুলিশ সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন,
“নির্বাচন বানচালের কোনো চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। গত তিনটি নির্বাচনে যারা দায়িত্বে ছিলেন, এবার তাদের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে রাখা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে,
“একবিংশ শতকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে বড় খুনি নেই—এটা জাতিসংঘের রিপোর্টেই উল্লেখ আছে। কেউ কোনো অপকর্ম করে পার পাবে না। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।”







