মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে শান্তির সম্ভাবনা জোরদার হচ্ছে। ইসরায়েল লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু করায় এই আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
ওয়াশিংটন, ডিসি ও জেরুজালেমে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার পাশাপাশি পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তানের একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা তেহরানে অবস্থান করছেন, যা আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের নেতাদের মধ্যে শিগগিরই সরাসরি আলোচনা হতে পারে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, খুব দ্রুতই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসতে পারে। এর আগে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা লেবাননের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে বৈঠক করেছে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর সঙ্গে টানা ছয় সপ্তাহের সংঘাতের পর এই আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, “সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আমরা আশাবাদী। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা ফলপ্রসূ ও চলমান রয়েছে।”
তবে আগের দফার আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। সংঘাতের অন্যতম বড় জটিলতা হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে তা বন্ধ রাখতে চাইলেও ইরান স্বল্পমেয়াদি সীমিত বিরতির প্রস্তাব দিয়েছে।
এই যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, বিশেষ করে ইরান ও লেবাননে। পাশাপাশি জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার প্রত্যাশায় বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে এবং জ্বালানির দাম কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্য কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাল্টা হিসেবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চল, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে বাণিজ্য বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও এখনো অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন দফার আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হতে পারে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.