হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা দেন সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ চালিয়ে যায় এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে, তবে সেটিকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হবে।
তিনি আরও জানান, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে কোনো ধরনের আমদানি-রপ্তানি চলতে দেবে না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত হাজারো সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে সমঝোতায় আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানে নতুন করে আলোচনা শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র দুটি শর্ত দিয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই তেহরানের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা শুরু হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, ইরান যদি জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে তাদের নিজস্ব জাহাজ চলাচলেও একই ধরনের বাধা আরোপ করা হবে—এমন অবস্থানে রয়েছে ওয়াশিংটন।
আরেকটি শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত করতে ইরানের প্রতিনিধিদলকে তাদের সামরিক বাহিনীর পূর্ণ অনুমোদন থাকতে হবে।
এদিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আবারও আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখনো নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নির্ধারণ না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সপ্তাহের শেষের দিকে দুই দেশের প্রতিনিধিদল সেখানে ফিরে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর সেটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের প্রথম বৈঠক।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.