বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫৭ শতাংশই তাদের বিনিয়োগ আরও বাড়াতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো)-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট আকিকো ওকামুরা। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর শেষে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ ও জাপানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাধীনতার পর থেকেই শুরু হলেও ২০০০ সালের পর তা নতুন গতি পায়, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স খাতে। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার এবং দেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের আগে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সইও এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।
আকিকো ওকামুরা বলেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ভিয়েতনামসহ আসিয়ানভুক্ত অনেক দেশের তুলনায় বেশি আকর্ষণীয়। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নতুন সরকারের আগমনে জাপানি কোম্পানিগুলো এখন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে। তার মতে, স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকলে শুধু জাপান নয়, অন্যান্য দেশ থেকেও বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব।
তবে ইতিবাচক সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। জেট্রোর জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে কার্যরত ১৭২টি কোম্পানির মধ্যে বেশিরভাগই পাঁচটি বড় সমস্যার কথা উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ সবচেয়ে বেশি। প্রায় ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান প্রশাসনিক জটিলতা ও ধীরগতির অভিযোগ করেছে, আর ৫৮ শতাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সড়ক অবকাঠামোর দুর্বলতাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উঠে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, কাস্টমস ছাড়পত্র প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে হবে এবং এইচএস কোডের স্পষ্টতা ও অনলাইন সিস্টেমের কার্যকারিতা বাড়ানো জরুরি। এসব সমস্যা সমাধান হলে ব্যবসার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
মানবসম্পদ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আকিকো ওকামুরা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে দক্ষ শ্রমিক থাকলেও মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপক সংকট রয়েছে। তার মতে, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে এই স্তরের জনবল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু বিদেশি কর্মীর ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় দক্ষতা উন্নয়নে জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.