প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ কে ফজলুল হক শুধু বাংলার কৃষক সমাজের নেতা নন, তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের একজন অবিসংবাদিত নেতা। সোমবার (২৭ এপ্রিল) শেরে বাংলার ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় বলেন, ফজলুল হকের সংবেদনশীলতা, মানবিকতা এবং আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান তাকে সর্বভারতীয় রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। তিনি অবিভক্ত বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
শেরে বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপনের মাধ্যমে উপমহাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন ফজলুল হক। এই প্রস্তাব আজও ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং তার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ফজলুল হক ছিলেন বাংলার অবহেলিত কৃষক সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধি। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, এই অঞ্চলের রাজনীতি ও অর্থনীতি কৃষিনির্ভর সমাজের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি কৃষকদের স্বার্থকে রাজনৈতিক কাঠামোর কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।
তিনি স্মরণ করেন, ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে ফজলুল হক প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেন এবং কৃষক-শ্রমিকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি শিক্ষার প্রসার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নেও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেরে বাংলার আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
উল্লেখ্য, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.