যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা প্রায় পাঁচ সপ্তাহের হামলার পরও ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের বড় একটি অংশ অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তারা। তাদের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই সক্ষমতার মাধ্যমেই ইরান এখনও “শক্তিশালী প্রতিরোধ” বজায় রাখতে পারছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরান তাদের যুদ্ধপূর্ব ড্রোন অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্রের (লঞ্চার) ৬০ শতাংশেরও বেশি অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ১০০টির বেশি লঞ্চার উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো গুহা ও ভূগর্ভস্থ বাংকারে লুকানো ছিল। কর্মকর্তাদের মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হলে ইরান তাদের আগের সামরিক সক্ষমতার প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করতে পারে।
যদিও হামলায় অস্ত্র উৎপাদনের অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে, তবুও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কৌশলগত অবস্থানের কারণে ইরান এখনও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট নিয়ন্ত্রণে সক্ষম। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার মতো সক্ষমতা তাদের রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসরায়েলের সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, ভবিষ্যতে সংঘাত হলে ইরান প্রথমেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারে। কারণ, এই নৌপথটি বিশ্ব তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ মন্তব্য করেছেন, হরমুজ প্রণালিকেই ইরানের “অপ্রচলিত শক্তি” হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার প্রভাব অনেক বিস্তৃত হতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থনৈতিক কার্যক্রম সমুদ্রপথে নির্ভরশীল, যার দৈনিক মূল্য প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই বাণিজ্যের একটি বড় অংশই বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও যুদ্ধবিরতি শেষ হলে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.