1. arshinagargroup75@gmail.com : ratul :
  2. abclimited2020@gmail.com : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD) : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD)
শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন

দেশের বিমানবন্দরে সারচার্জ কমলো, টেকসই এভিয়েশন শিল্পের পথে নতুন যুগ

নিউজডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ১১ Time View

প্রায় তিন দশক পর দেশের বিমানবন্দরগুলোতে সারচার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত টেকসই এভিয়েশন শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এয়ারলাইন্সগুলোর মতে, সারচার্জ কমানোর ফলে তাদের টিকে থাকা সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে বিনিয়োগ ও সেবার মান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে বিমানবন্দর ব্যবহারের সারচার্জ ছিল অস্বাভাবিকভাবে বেশি। ভারত, ওমান, সিঙ্গাপুর ও পাকিস্তানে যেখানে এই হার ২ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে, সেখানে বাংলাদেশে ছিল প্রায় ৭২ শতাংশ। এত বেশি সারচার্জের কারণে দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স আর্থিক সংকটে পড়ে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়।

২০২৬ সালে অন্তর্বর্তী সরকার বিমান মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে বড় পরিবর্তন আনে। দেশের সাতটি বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক ধাপে সারচার্জ ৭২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে এয়ারলাইন্সগুলোর সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-এর মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম বলেন,
“গত ২৯ বছর ধরে আমরা সারচার্জ কমানোর দাবি করে আসছি। আগের সরকারগুলো গুরুত্ব দেয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সেই সুযোগটি দিয়েছে। এতে এয়ারলাইন্সগুলোর স্থায়িত্ব বাড়বে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।”

বিশেষজ্ঞরা জানান, বিমানবন্দর ব্যবহারের চার্জ বকেয়া থাকলে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৬ শতাংশ করে যোগ হতো, যা বছর শেষে ৭২ শতাংশে পৌঁছাত। এ কারণেই এভিয়েশন শিল্প সম্প্রসারণে বড় বাধা তৈরি হয়েছিল।

দ্য বাংলাদেশ মনিটর-এর সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন,
“জিএমজি, ইউনাইটেড ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মতো বড় এয়ারলাইন্স বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল অতিরিক্ত সারচার্জ। এত বড় অঙ্কের চার্জ বহন করা অধিকাংশ এয়ারলাইন্সের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই সারচার্জ কমানো দেশের বিমান চলাচলের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।”

তিনি আরও জানান, সারচার্জ কমলেও টিকিটের দামে তাৎক্ষণিক বড় প্রভাব পড়বে না। তবে এয়ারলাইন্সগুলো কিছুটা স্বচ্ছল হবে, যা ভবিষ্যতে সেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর কাছে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর মোট বকেয়া প্রায় ৭ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সারচার্জের অংশই প্রায় ৭৮ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু এয়ারলাইন্স বাঁচাবে না, বরং দেশের বিমান চলাচল খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করে তুলবে। দীর্ঘদিনের জট খুলে এবার নতুন করে উড়াল দেওয়ার সুযোগ পেল বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্প।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © arshinagar tv 2025
Design & Develop BY Coder Boss