ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় কিছু ন্যাটো মিত্র দেশের বিরুদ্ধে ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার চিন্তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি স্পেন-কে ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পেন্টাগন-এর একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইল থেকে জানা যায়, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার, আকাশসীমা বা লজিস্টিক সহায়তা দিতে অনীহা দেখিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে।
এই বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, স্পেনকে ন্যাটো থেকে সাময়িক বহিষ্কার। ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ‘অসহযোগী’ দেশগুলোকে সরিয়ে দেওয়া। কিছু কৌশলগত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে আসছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের জন্য অনেক কিছু করলেও সংকটের সময় তারা যথেষ্ট সহযোগিতা করেনি।
পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন বলেন, মিত্ররা যেন শুধু নামমাত্র শক্তি না হয়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে, সে জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে “বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প” রাখা হচ্ছে।
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে আসছে স্পেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে অংশ নেওয়া বিমানগুলোর জন্য স্পেন তাদের আকাশসীমা বা ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।
এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছেন।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশগুলোকে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানালেও তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ন্যাটোর ভেতরে বড় ধরনের বিভাজন তৈরি করতে পারে। যদিও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো ছাড়ার বা ইউরোপে সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.