ইরানের একটি স্কুলে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের দীর্ঘ নীরবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক পাঁচজন কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে একজন সাবেক শীর্ষ সামরিক আইনজীবীও রয়েছেন। তারা বলছেন, এতদিন পার হলেও হামলার বিষয়ে ন্যূনতম তথ্য প্রকাশ না করা অস্বাভাবিক।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাব এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬৮ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে প্রায় ১১০ জনই শিশু বলে জানিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুর দিকেই এই হামলা ঘটে।
ঘটনার পর থেকে প্রতিরক্ষা দপ্তর শুধু বলছে, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—মার্কিন বাহিনীর হামলাই ভুলবশত ওই স্কুলে আঘাত হেনেছিল, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
সাবেক সামরিক আইনজীবী র্যাচেল ই ভ্যানল্যান্ডিংহাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আগের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। আগে প্রশাসনগুলো যুদ্ধের আইন মেনে চলা এবং জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি দেখাতো, কিন্তু এখন সেই দায়বদ্ধতার অভাব স্পষ্ট।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে এই হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী করেন, যদিও তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, তিনি এ সম্পর্কে অবগত নন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, তারা কখনোই বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালান না এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনো ঘটনায় বেসামরিক হতাহতের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় সামরিক উপস্থিতি পাওয়া যায়, তখনই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। তাই অনেকের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু তা স্বীকার করতে অনীহা দেখা যাচ্ছে।
এদিকে কংগ্রেসের বিরোধী দলীয় সদস্যরাও এ বিষয়ে জবাব চেয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন, তবে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি। বিষয়টিকে তারা “অপর্যাপ্ত” বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে এমন ঘটনায় দ্রুত দায় স্বীকার ও দুঃখ প্রকাশের নজির থাকলেও, এবার অস্বাভাবিক নীরবতা পুরো ঘটনাকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.