সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দিয়েছে, তারা দীর্ঘদিনের সদস্যপদ শেষ করে পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন (ওপেক) থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। ১ মে থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক তেল উৎপাদকদের জোটে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ওপেকের অন্যতম বড় উৎপাদক দেশ হওয়ায় আমিরাতের প্রস্থান বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে জোটটির প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে।
আমিরাতের জ্বালানি মন্ত্রী সুহাইল মোহাম্মদ আল-মাজরুয়ী জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি নীতি পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বে জ্বালানির চাহিদা বাড়বে এবং সেই চাহিদা পূরণে আমিরাত প্রস্তুত থাকবে। ওপেকের কোটা থেকে মুক্ত হয়ে ভবিষ্যতে তারা উৎপাদন বাড়াতে পারবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে হরমুজ প্রণালিতে (ইরান ও ওমানের মাঝের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ) চলাচলে বাধার কারণে তাৎক্ষণিক বড় প্রভাব পড়বে না বলে মনে করা হচ্ছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওপেক প্লাসের বৈশ্বিক তেল উৎপাদনে অংশীদারিত্ব ইতোমধ্যেই কমতে শুরু করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও কমতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর জন্য ইতিবাচক হতে পারে। তিনি আগে থেকেই ওপেকের উচ্চ তেলের মূল্য নিয়ে সমালোচনা করে আসছেন।
অন্যদিকে, এই পদক্ষেপ আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যকার দূরত্ব আরও বাড়াতে পারে। একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও এখন জ্বালানি নীতি, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওপেকের বাইরে গিয়ে আমিরাত উৎপাদন বাড়ালে বৈশ্বিক বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং সৌদি আরবের নেতৃত্বের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.