মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক ও পাকিস্তান। ইরান এসব দেশকে ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ নয়; এটি শুধুমাত্র ‘শত্রুদের জন্য’ বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতেই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকতে পারে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের জাহাজ নিরাপদে এই পথ অতিক্রম করেছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এসব জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পারস্য উপসাগরের এই সংকীর্ণ জলপথটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে হয়ে থাকে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর থেকে এই পথটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল কিংবা তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজকে এই পথে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। এমনকি ‘এক লিটার তেলও’ এই পথ দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান।
এদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কায় জাতিসংঘ ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় সবার জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আংশিক অনুমতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনলেও সামগ্রিকভাবে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.