ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি জানিয়েছে, নিজেদের কৌশলগত মজুদ থেকে তেল ছেড়ে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, স্ট্রাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) থেকে তেল ছাড়ার মূল উদ্দেশ্য হলো বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিভিন্ন দেশ নিজেদের অর্থনীতি রক্ষায় নানা পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের জন্য একটি বিশেষ ছাড় দিয়েছে, যার ফলে সমুদ্রে থাকা প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর লক্ষ্য বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়ানো।
এর আগে রাশিয়ার তেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, এই ছাড় ২০ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে বোঝাই করা কার্গোগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত মজুদ থেকেও বড় পরিসরে তেল ছাড়ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১১৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের একটি বড় দিক হলো বাজারে ‘মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব’ তৈরি করা। গ্লোবাল ইকোনমিক অ্যাডভাইজার্স-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ উইলিয়াম লি বলেন, যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যা মূলত এশিয়ার বাজারকে প্রভাবিত করছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ মূলত বাজারকে আশ্বস্ত করার জন্য—যাতে বোঝানো যায়, ইরানের সরবরাহ ব্যাহত হলেও বিকল্প হিসেবে মার্কিন তেল পাওয়া যাবে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মজুদ থেকে তেল ছাড়ার গতি বাস্তব সরবরাহ ঘাটতির তুলনায় কম। তাই দীর্ঘমেয়াদে দাম স্থিতিশীল রাখতে হলে যুদ্ধের সময়কাল কমানোই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.