মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে বিভিন্ন দেশ। এই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে পাকিস্তান।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে ইসলামাবাদ নিজেকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করছে। দেশটির সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কিছু সূত্র জানিয়েছে, পক্ষগুলো আলোচনায় আগ্রহী হলে পাকিস্তান নিজ দেশে বৈঠকের আয়োজন করতেও প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই ভূমিকাকে গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে রয়েছে তাদের কৌশলগত অবস্থান। দেশটির সঙ্গে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে, তেমনি প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ইরানের সঙ্গেও রয়েছে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে পাকিস্তান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের কূটনৈতিক স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে পাকিস্তান—যা তাদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের সমর্থন ছাড়া পাকিস্তানের বড় ধরনের কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া কঠিন হতে পারে। কারণ আঞ্চলিক রাজনীতিতে রিয়াদের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় বিকল্প কূটনৈতিক পথ খোঁজার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পাশাপাশি তুরস্ক ও মিশরের মতো দেশগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই মধ্যস্থতাকারীদের গুরুত্ব বাড়বে। আর সেই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.