জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার =ফ্রান্সেসকা আলবানিজ অভিযোগ করেছেন, বিশ্ব সম্প্রদায় কার্যত ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের ‘লাইসেন্স’ দিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জীবন এখন শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার এক দীর্ঘ ধারাবাহিকতায় পরিণত হয়েছে।
সোমবার জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ-এ তার সর্বশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে আলবানিজ বলেন, “নির্যাতন এখন কার্যত রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত হয়েছে।” তার ভাষায়, আগে যা আড়ালে ঘটত, এখন তা প্রকাশ্যেই সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে—যেখানে অপমান, যন্ত্রণা ও নিপীড়ন রাজনৈতিক সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত।
“নির্যাতন ও গণহত্যা” শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্যাতন শুধু কারাগার বা জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং গণউচ্ছেদ, অবরোধ, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা বন্ধ রাখা, অবাধ সামরিক ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং সর্বব্যাপী নজরদারির মাধ্যমে পুরো দখলকৃত অঞ্চলকে এক ধরনের ‘সমষ্টিগত শাস্তির’ জায়গায় পরিণত করা হয়েছে।
আলবানিজ আরও বলেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে ফিলিস্তিনিদের ওপর গুরুতর মানসিক ও শারীরিক প্রভাব ফেলছে এবং এটিকে তিনি ‘সমষ্টিগত নির্যাতনের কৌশল’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এছাড়া দখলকৃত পশ্চিম তীরে একই সময়ের মধ্যে ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় ১,৫০০ শিশু রয়েছে।
তবে ইসরায়েল জাতিসংঘে তাদের মিশনের মাধ্যমে এই প্রতিবেদনকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আলবানিজের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।
প্রতিবেদনের শেষে আলবানিজ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নির্যাতন ও গণহত্যার মতো অপরাধ প্রতিরোধ এবং শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এসব কর্মকাণ্ড সহ্য করতে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্বই একসময় হারিয়ে যাবে।”
সূত্র: আল জাজিরা
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.