রমজান মাসের শেষপ্রান্তে এসে মুসলিম উম্মাহর সামনে হাজির হয় পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর এই দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সদকাতুল ফিতর, যা আমাদের দেশে ‘ফিতরা’ নামে পরিচিত। ইসলামে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এটি যাকাতের একটি বিশেষ প্রকার এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) হাদিস ও সুন্নাহর মাধ্যমে এর গুরুত্ব ও নিয়ম-কানুন স্পষ্টভাবে শিক্ষা দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় যুগে যুগে মুসলিমরা নিয়মিত এই ইবাদত আদায় করে আসছেন।
সদকাতুল ফিতরের মূল উদ্দেশ্য হলো—ঈদের আনন্দে সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের শরিক করা। পাশাপাশি রোজার সময় অনিচ্ছাকৃত ভুল-ত্রুটি বা অপূর্ণতাও এর মাধ্যমে পূরণ হয়ে যায়। হাদিসে বর্ণিত আছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে, রাসূল (সা.) সদকাতুল ফিতরকে নির্ধারণ করেছেন রোজার ত্রুটি পূরণ এবং দরিদ্রদের খাদ্যের ব্যবস্থা করার জন্য (সুনানে আবু দাউদ: ১৬১১)।
অন্য হাদিসে হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেছেন—“সদকায়ে ফিতর আদায় না করা পর্যন্ত বান্দার রোজা আসমান ও জমিনের মাঝখানে ঝুলন্ত থাকে” (কানযুল উম্মাল: ২৪১২৯)।
কার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব?
ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় যদি কারো কাছে সাড়ে সাত ভরি সোনা, সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা বা তার সমমূল্যের সম্পদ (প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অতিরিক্ত) থাকে, তাহলে তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। ব্যক্তি নিজে যেমন ফিতরা আদায় করবেন, তেমনি তার অধীনস্থ সদস্যদের পক্ষ থেকেও তা আদায় করবেন।
জাকাত ও ফিতরার মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন—জাকাতের ক্ষেত্রে সম্পদের ওপর এক বছর অতিক্রম করা শর্ত, কিন্তু সদকাতুল ফিতর তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াজিব হয়ে যায় এবং এটি এমন সম্পদের ওপরও প্রযোজ্য, যা বৃদ্ধি পায় এমন হওয়া জরুরি নয়।
এমনকি ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় কোনো নবজাতক জন্ম নিলে বা কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে, তার পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করতে হবে।
পরিবারের পক্ষ থেকে ফিতরা
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পক্ষ থেকে পিতার জন্য ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব নয়, তবে দিলে তা আদায় হয়ে যায়। একইভাবে স্বামী যদি স্ত্রীর পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করেন, তাতেও আদায় হয়ে যাবে।
সবশেষে বলা যায়, সদকাতুল ফিতর শুধু একটি ইবাদত নয়—এটি সামাজিক সমতা, সহমর্মিতা এবং মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাই আমাদের উচিত খুশিমনে ফিতরা আদায় করা, যাতে করে ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং আমরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ ইবাদত যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.