ইরাকের জলসীমায় বিস্ফোরক বোঝাই নৌকার হামলায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে এবং অন্তত একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও চারটি জাহাজে প্রকল্পাইল আঘাতের খবর পাওয়া গেছে।
বুধবার গভীর রাতে ইরাকের কাছে উপসাগরে হামলার শিকার জাহাজ দুটি হলো মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী সেইফসি বিষ্ণু এবং জেফিরোস । ইরাকের দুই বন্দর কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, জাহাজ দুটি ইরাক থেকে জ্বালানি বোঝাই করেছিল। একটি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, জেফিরোস জাহাজটি মাল্টার পতাকাবাহী।
একজন বন্দর নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, “আমরা পানির ভেতর থেকে একজন বিদেশি নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করেছি।” উদ্ধারকারী দল এখনও নিখোঁজ নাবিকদের খুঁজে যাচ্ছে। তবে নিহত নাবিকটি কোন জাহাজের ছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরাকের রাষ্ট্রায়ত্ত বন্দর কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক ফারহান আল-ফারতুসি জানান, ইরাক পোর্টস কোম্পানির একটি নৌকা দুটি জাহাজ থেকে ২৫ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে। তবে উভয় জাহাজেই এখনও আগুন জ্বলছে।
তিনি ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে জানান, হামলার পর দেশের তেলবন্দরগুলোর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে, যদিও বাণিজ্যিক বন্দরগুলো এখনও চালু রয়েছে।
বাগদাদে কর্মরত সংবাদদাতা জানান, ইরাকি কর্মকর্তারা এ ঘটনাকে নাশকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এটি ইরাকের আঞ্চলিক জলসীমায় ঘটায় দেশের সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
রয়টার্স জানায়, বিস্ফোরক বোঝাই মানববিহীন নৌযান ব্যবহারের খবর এসেছে। ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে এমন নৌযান কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছে।
এদিকে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।
রয়টার্সের দুটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান প্রণালীটিতে প্রায় এক ডজন সামুদ্রিক মাইন মোতায়েন করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের ২৮টি মাইন বসানোর নৌযানে হামলা চালিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যদি ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে মাইন স্থাপন করে তবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস – আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচল করলে তা লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলির উত্তরে প্রায় ৩৫ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি কন্টেইনার জাহাজে অজ্ঞাত প্রকল্পাইল আঘাত করেছে, এতে ছোটখাটো আগুন লাগে। তবে সব নাবিক নিরাপদ আছেন।
থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী শুকনো পণ্যবাহী জাহাজ মায়ুরি নারি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় অজ্ঞাত উৎস থেকে দুটি প্রকল্পাইল আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে আগুন লাগে এবং ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তিনজন নাবিক নিখোঁজ এবং তারা সম্ভবত ইঞ্জিন কক্ষে আটকা পড়েছেন। বাকি ২০ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করে ওমানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এদিকে জাপানের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ওএনই ম্যাজেস্টি তেও বুধবার অজ্ঞাত প্রকল্পাইল আঘাত করে সামান্য ক্ষতি করেছে। তবে জাহাজের সব নাবিক নিরাপদ আছেন এবং জাহাজটি এখনও চলাচলের উপযোগী রয়েছে।
আরও একটি জাহাজ, মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী স্টার গুইনেথ নামের বাল্ক ক্যারিয়ারও অজ্ঞাত প্রকল্পাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে জাহাজের গায়ে ক্ষতি হলেও কোনো নাবিক আহত হননি।
এদিকে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী আপাতত হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজকে সামরিক নিরাপত্তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সেখানে হামলার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।








Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.