ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ‘কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র’ পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন স্বয়ং উপস্থিত থেকে এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর্যবেক্ষণ করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর সামরিক আগ্রাসন ঘিরে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চলছে, সেই সময় গত বুধবার (৪ মার্চ) দেশের পশ্চিমাঞ্চলের ন্যাম্পো শিপইয়ার্ডে নতুন যুদ্ধজাহাজ থেকে সমুদ্র-থেকে-ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়।
ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয় নতুন নির্মিত ‘চোয়ে হিয়ন’ যুদ্ধজাহাজ থেকে। পরীক্ষার পরই জাহাজটির আনুষ্ঠানিক কমিশনিং সম্পন্ন হয়। কিম জং উন এই পরীক্ষাকে নতুন যুদ্ধজাহাজের ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি উত্তর কোরিয়ার নৌ প্রতিরক্ষার নতুন প্রতীক।
তিনি আরও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষায়,
“আমাদের নৌবাহিনীর জলরেখার উপরে ও নিচে থেকে আক্রমণের সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।”
এদিকে ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া যখন কোনো অস্ত্রকে ‘কৌশলগত’ বলে উল্লেখ করে, তখন সাধারণত সেটি পারমাণবিক অস্ত্র বহনের সক্ষমতা রাখে বলে ধারণা করা হয়।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, গত মঙ্গলবার ও বুধবার কিম জং উন ন্যাম্পো শিপইয়ার্ডে দুই দিনের সফরে ৫ হাজার টনের ‘চোয়ে হিয়ন-ক্লাস’ ডেস্ট্রয়ার পরিদর্শন করেন। এটি ওই সিরিজের প্রথম যুদ্ধজাহাজ, এবং একই শ্রেণির আরও জাহাজ বর্তমানে নির্মাণাধীন।
অন্যদিকে ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা নিয়ে উত্তর কোরিয়া কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা ‘অবৈধ আগ্রাসন’ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.