1. arshinagargroup75@gmail.com : ratul :
  2. abclimited2020@gmail.com : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD) : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD)
বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন

উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর সব হামলার পেছনে ইরান নয়: আদওয়ান আল-আহমারির সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬
  • ৯ Time View

উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার জন্য সব দায় ইরানের ওপর চাপানো ঠিক নয়—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের প্রভাবশালী সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আদওয়ান আল-আহমারি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে, আর পরে সেখান থেকে সরে দাঁড়াতে পারে—এমন ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

মঙ্গলবার রিয়াদভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট আরাবিয়া–এর সম্পাদক-ইন-চিফ হিসেবে আশার্ক নিউজ–এ দেওয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে আল-আহমারি জানান, সাম্প্রতিক কিছু হামলার ক্ষেত্রে ‘ফলস-ফ্ল্যাগ’ বা বিভ্রান্তিমূলক অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তার ভাষ্য,
“অনেকে মনে করেন, এই যুদ্ধ আসলে আমেরিকা-ইসরায়েলের একটি ফাঁদ—যার উদ্দেশ্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতে টেনে আনা। এরপর তারা নিজেরা সরে যেতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন ও উপসাগরীয় সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে আস্থার ঘাটতি দিন দিন বাড়ছে।
“ধরা যাক, এক বা দুই সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিল যে তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং যুদ্ধ শেষ—তাহলে উপসাগরীয় দেশগুলো একা পড়ে যাবে ইরানের মুখোমুখি সংঘাতে।”

আল-আহমারির মতে, শুধু ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা বা পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ধ্বংস করলেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হবে না, যদি না ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ভেঙে ফেলা হয়।
তিনি বলেন,
“আইআরজিসিকে বাদ দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা অর্থহীন। পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করলেও আইআরজিসি থাকলে তারা আবার শক্তিশালী হয়ে ফিরবে।”

এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্রকে উপসাগরীয় মিত্রদের কাছে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে—যুদ্ধের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী এবং এর সময়সীমা কত।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে বলেছিলেন যুদ্ধ চার-পাঁচ দিনের মধ্যে শেষ হবে। পরে তা চার-পাঁচ সপ্তাহে গড়ায়। আর সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, যুদ্ধের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।

আল-আহমারি মন্তব্য করেন,
“এটি ইতিহাসের সবচেয়ে অদ্ভুত সামরিক অভিযান।”

তিনি আরও বলেন, ইরানের বর্তমান সামরিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা এক দশক আগের মতো শক্তিশালী নয়। ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট দেশটিকে দুর্বল করেছে। তাই উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলাকে তিনি “আত্মঘাতী আচরণ” বলে অভিহিত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংকিং খাতে ধস ইরানের আর্থিক সংকটকে আরও তীব্র করেছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যই অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে—এমনটাই সতর্ক করেছেন সৌদি এই সম্পাদক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © arshinagar tv 2025
Design & Develop BY Coder Boss