তাইওয়ানের নিকটবর্তী দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে জাপান। বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত চীন-এর সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানিয়েছেন, তাইওয়ানের মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইওনাগুনি দ্বীপ-এ ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করা হবে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিমান ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করে ২০৩১ সালের মার্চের মধ্যে মোতায়েন সম্পন্ন করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি জাপানের নিরাপত্তা অবস্থানে একটি স্পষ্ট কঠোরতার ইঙ্গিত। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক আইনর ট্যাঙ্গেনের মতে, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর একটি ‘গণনাকৃত’ কৌশল।
এ সিদ্ধান্ত এমন সময় এলো, যখন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সম্প্রতি তাইওয়ান ইস্যুতে সামরিক সম্পৃক্ততার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। এতে টোকিওর দীর্ঘদিনের কৌশলগত অস্পষ্টতা ভেঙে গেছে বলে মনে করছে বেইজিং।
চীন, যা তাইওয়ান-কে নিজের সার্বভৌম ভূখণ্ড বলে দাবি করে, জাপানের অবস্থানকে ‘উসকানিমূলক’ আখ্যা দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জাপানকে তাইওয়ান ইস্যুতে ‘আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ করতে হবে’।
বিশ্লেষকদের মতে, ইয়োনাগুনি দ্বীপটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পরিষ্কার দিনে এখান থেকে তাইওয়ানের উপকূল দেখা যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই দ্বীপপুঞ্জে রাডার, গোলাবারুদ গুদাম ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি স্থাপন করে সামরিক অবকাঠামো বাড়িয়েছে জাপান।
চীন ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে শুরু করেছে। জাপানের ৪০টি প্রতিষ্ঠানের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বেসামরিক খাতেও নিষেধাজ্ঞা বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাইওয়ান ইস্যু চীনের জন্য ‘মূল স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু’। অন্যদিকে জাপানের সঙ্গে চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্কও গভীর—২০২৪ সালে দুই দেশের বাণিজ্য ছিল প্রায় ৩২২ বিলিয়ন ডলার। ফলে সামরিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা একসঙ্গে সামাল দেওয়া টোকিওর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।








Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.