ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নতুন সরকারে যোগাযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য শেখ রবিউল আলম। তাকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দলীয় রাজনীতিতে শেখ রবিউল আলম বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।
নির্বাচনী নথি অনুযায়ী, শেখ রবিউল আলমের জন্ম ১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১০ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নির্বাচনে তিনি মোট ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট।
নথিতে উল্লেখ রয়েছে, তার স্থায়ী ঠিকানা বাগেরহাটে হলেও বর্তমানে তিনি ঢাকার হাতিরপুল এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। নির্বাচনী হলফনামায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ৭টি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতসহ বিভিন্ন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে চলমান। এ ছাড়া অতীতে তার বিরুদ্ধে আরও ২৮টি মামলার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়, যার অধিকাংশই আদালতের মাধ্যমে খালাস বা অব্যাহতির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে দীপ্ত টিভির সম্প্রচার প্রকৌশলী তানজীল জাহান তামিম হত্যাকাণ্ডে কথিত সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর বিএনপি তাদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে শেখ রবিউল আলমের দলীয় পদ স্থগিত করে।
এর আগে, একই বছরের ১০ অক্টোবর, তানজীল জাহান তামিমকে শেখ রবিউল আলমের মালিকানাধীন রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান প্লেজ্যান্ট প্রপার্টিজ লিমিটেডের কয়েকজন কর্মচারী ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের সহায়তায় পিটিয়ে হত্যা করেছে—এমন অভিযোগ ওঠে।
পেশাগত জীবনে তিনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি এম/এস আরবি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এবং একটি কোম্পানির পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৫–২০২৬ করবর্ষে তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ব্যবসা থেকে আয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং পরিচালক হিসেবে পারিশ্রমিক ৬ লাখ টাকা। সরকারি নথি অনুযায়ী, তার নিট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ১ লাখ ৫২ হাজার ৬২৩ টাকা।
তার স্ত্রী বকুল আক্তারও একজন ব্যবসায়ী। তার বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯৫ টাকা এবং নিট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৭ লাখ ২০ হাজার ৭৯৫ টাকা। তাদের দুই সন্তান রয়েছে—এক ছেলে শেখ রাকিবুল আলম ও এক মেয়ে রিফা তাশফিয়া; উভয়েই বর্তমানে শিক্ষার্থী।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.