প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগোতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে নবনির্বাচিত সরকারের ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোথায় থাকবেন?
২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আসে। ওই সময় ছাত্র-জনতার ক্ষোভের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন। পরে সেটিকে রূপান্তর করা হয় ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে’। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল বেড়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনা-কে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করা হতে পারে। এ বিষয়ে নির্দেশনা পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন,
“যমুনা ভবনটি বর্তমানে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রয়েছে। নির্দেশনা পেলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই এটিকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে প্রস্তুত করা সম্ভব।”
তবে শুধু যমুনা নয়, নতুন করে একটি আধুনিক ও স্থায়ী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও চলছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সুবিধা ও প্রটোকল ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন,
“প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন শুধু একটি বাড়ি নয়, এটি রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সঙ্গে তুলনাযোগ্য একটি স্থাপনা নির্মাণের লক্ষ্যেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনার পাশেই ২৯ নম্বর ভবনটি বিরোধী দলীয় নেতার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে ভবনটি তৎকালীন বিরোধী নেতাদের জন্য বরাদ্দ ছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন তারেক রহমান। বর্তমানে তিনি গুলশানের ১৯৬ নম্বরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সেখানেই থাকবেন নাকি নতুন সরকারি বাসভবনে উঠবেন—সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণই তার ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.