আল-জাজিরা আরবিতে সম্প্রতি প্রকাশিত তদন্তে উঠে এসেছে, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহকৃত থার্মাল ও থার্মোবারিক বোমা ব্যবহার করেছে। এই অস্ত্রের তাপমাত্রা ৩,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা কিছু ঘটনায় প্রায় ৩,০০০ ফিলিস্তিনি নিখোঁজ করেছে।
তদন্তে দেখা গেছে, গাজার সিভিল ডিফেন্সের দল ২,৮৪২ জনের “অদৃশ্য হওয়া” সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত করেছে। এরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা ও উদ্ধার হওয়া দেহ মিলিয়ে যাচাই করে। যদি কোনো ব্যক্তি উদ্ধারে না আসে, তাকে “অদৃশ্য” হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, থার্মোবারিক অস্ত্র কেবল হত্যা করে না; এটি এমনভাবে বিস্ফোরণ ঘটায় যে শারীরিক উপাদান ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যায়। কিছু বোমায় অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও টাইটানিয়াম মিশিয়ে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি করা হয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক ড. মুনির আল-বুরশ বলেন, মানবদেহ প্রায় ৮০ শতাংশ জল নিয়ে গঠিত। অতিরিক্ত তাপ ও চাপের কারণে শরীরের তরল মুহূর্তের মধ্যে ভাপে পরিণত হয় এবং টিস্যু সম্পূর্ণভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
তদন্তে সনাক্তকৃত কিছু ইউএস-মেড বোমা:
MK-84 “হ্যামার”: ৯০০ কেজি ওজন, তাপমাত্রা ৩,৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
BLU-109 বাঙ্কার বাস্টার: অপ্রত্যাশিত স্থানে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ঘরের ভেতরের সব ধ্বংস করে।
GBU-39 প্রিসিশন গ্লাইড বোম: সঠিক লক্ষ্যবস্তুতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভিতরের সব ধ্বংস করে।
আইনি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার যুদ্ধাপরাধের অন্তর্ভুক্ত এবং সরবরাহকারী দেশগুলোও এই অপরাধে জড়িত।
আন্তর্জাতিক আদালতের কয়েকটি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গাজার সাধারণ মানুষ ও পরিবারগুলো এই পরিস্থিতিতে গভীর মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছে।