আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে ১০৪ জনকে গুম করে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার গুরুতর দায় আনা হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিচারিক কার্যক্রমের শুরুতে প্রসিকিউশন পক্ষ মামলার সামগ্রিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করবে। এরপর এক নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দির মাধ্যমে মূল সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আজকের শুনানিতে প্রথম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়া।
এই মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই সাক্ষ্যগ্রহণ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রথম অভিযোগটি ২০১১ সালের ১১ জুলাইয়ের একটি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ওই দিন রাতে গাজীপুরের পুবাইল এলাকায় জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ চারজনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ের। অভিযোগ অনুযায়ী, এই সময়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল ও মল্লিকসহ অন্তত ৫০ জনকে হত্যার দায় তাঁর ওপর বর্তায়। তৃতীয় অভিযোগেও একই ধরনের অপরাধের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে আরও ৫০ জনকে হত্যার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর মাধ্যমে এই বহুল আলোচিত মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।
এই বিচার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গুম ও হত্যার অভিযোগে বিচার না হওয়ার যে অভিযোগ ছিল, তা এই মামলার মাধ্যমে নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায় সফলভাবে সম্পন্ন হলে মামলার গতিপথ আরও স্পষ্ট হবে এবং বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.