1. arshinagargroup75@gmail.com : ratul :
  2. abclimited2020@gmail.com : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD) : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD)
রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

বিএনপির ইশতেহারে ‘৭৪-এর কালো আইন’ বাতিলের ঘোষণা: বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে কতটা বাস্তবসম্মত?

নিউজডেস্ক
  • Update Time : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ Time View

দীর্ঘ বিরতির পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এটি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার। ৯ দফার কাঠামোয় প্রণীত এই ইশতেহারে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কারকে পাঁচটি প্রধান খাতে ভাগ করা হয়েছে— গণতন্ত্র ও জাতিগঠন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণ-অভ্যুত্থান, সাংবিধানিক সংস্কার, সুশাসন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা।

ইশতেহারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িতদের বিচার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিলের বিষয়ে। বিএনপির ঘোষণায় বলা হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে এই আইন বাতিল করাই হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ।

১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অজুহাতে কোনো ব্যক্তিকে আদালতের আনুষ্ঠানিক বিচার ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আটক রাখা যায়। এই আইনের কার্যকারিতা শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সরকারের আমলে এই আইনে গ্রেপ্তার ও আটক নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং বিচারহীনতার অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধী দল হিসেবে থাকা অবস্থায় প্রায় সব রাজনৈতিক দলই এই আইনের সমালোচনা করেছে। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর কেউই এটি বাতিলের উদ্যোগ নেয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইকতেদার আহমেদ বলেন, “৭৪-এর বিশেষ ক্ষমতা আইন নিয়ে একটি নির্দিষ্ট কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির সামনে ছয় মাস পরপর বিষয়টি উপস্থাপন করার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক সময় দুই বছরেও বিষয়টি সেখানে তোলা হয় না।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি সরকারই নির্বাচনী ইশতেহারে বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিলের কথা বলেছে। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর আর তা করেনি। এখন তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই আইন বাতিল করা হবে। বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি সত্যিই তারা এটি বাতিল করে, তাহলে আমরা সেটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখব।”

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “যে আইনগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় থাকলে রাষ্ট্র ও সরকারের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় মনে করে। কিন্তু বিরোধী অবস্থানে গেলে সেগুলোকে নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে দেখে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনে গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠা করাই সবচেয়ে জরুরি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারহীনতা, রাজনৈতিক অপব্যবহার এবং অনির্দিষ্টকালের আটক প্রথার সঙ্গে জড়িত। সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসনের ধারণার সঙ্গে এই আইনের সাংঘর্ষিক অবস্থান রয়েছে। সে কারণে বিএনপি যদি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই আইন বাতিল করে, তাহলে তা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে দ্রুত বিচারের মাধ্যমে জুলাই হত্যাযজ্ঞের বিচার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি গুম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বিচারপতি নিয়োগের জন্য পৃথক আইন প্রণয়ন এবং একটি জুডিশিয়াল কমিশন গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইকতেদার আহমেদ বলেন, “গুম-খুনের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এটা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

ড. তৌহিদুল হক বলেন, “একটি শক্তিশালী জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচারপতি নিয়োগ ও দক্ষতা যাচাই করা প্রয়োজন। কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু পুলিশ কমিশন গঠন করলেই যথেষ্ট হবে না। পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার বন্ধ না করলে কোনো সংস্কারই কার্যকর হবে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে আইনের শাসন কেবল কাগুজে প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

সব মিলিয়ে বিএনপির ইশতেহারে ‘৭৪-এর কালো আইন’ বাতিলের প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ক্ষমতায় গেলে এসব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। বিশ্লেষকদের মতে, যদি বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে সত্যিই বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিল করে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে, তাহলে তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © arshinagar tv 2025
Design & Develop BY Coder Boss