পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) জুমার নামাজের সময় এই হামলায় কমপক্ষে ৩১ জন নিহত এবং আরও অন্তত ১৬৯ জন আহত হয়েছেন। ২০০৮ সালে ম্যারিয়ট হোটেলে বোমা হামলার পর এটি ইসলামাবাদে সবচেয়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শহরের কর্মকর্তারা জানান, ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে অবস্থিত ইমাম বারগাহ কাসর-ই-খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে মুসল্লিরা জুমার নামাজের জন্য জড়ো হওয়ার সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই বহু মানুষ প্রাণ হারান এবং গুরুতর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন চিকিৎসকরা।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানা যায়, মসজিদের প্রবেশপথে হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করলে সে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের আগে হামলাকারী ও স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনাও ঘটে।
৫২ বছর বয়সী মুসল্লি মুহাম্মদ কাজিম বলেন, নামাজ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে, যা পুরো মসজিদ কাঁপিয়ে দেয়। আরেক মুসল্লি ইমরান মাহমুদ জানান, স্বেচ্ছাসেবকরা হামলাকারীকে থামাতে গেলে সে গুলি করে এগোতে চায় এবং পরে বিস্ফোরণ ঘটায়।
শনিবার এক বিবৃতিতে ইসলামিক স্টেট জানায়, তাদের এক যোদ্ধাকে মসজিদে প্রবেশের সময় আটকানোর চেষ্টা করা হলে সে বিস্ফোরক জ্যাকেট বিস্ফোরণ ঘটায়।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। তিনি হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার করেন এবং আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.