বাংলাদেশ দলের অনুপস্থিতিতে কলকাতায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহে বড় ধরনের ভাটা পড়েছে। ৬৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার ইডেন গার্ডেন্সে এখনো বিক্রি হয়নি ২১ হাজারের বেশি টিকিট। বিশ্বকাপের ম্যাচ সামনে থাকলেও অস্থায়ী টিকিট কাউন্টারগুলোতে নেই চিরচেনা লম্বা লাইন। হাতে গোনা কয়েকজন দর্শক ছাড়া কাউন্টারগুলো প্রায় ফাঁকা।
স্থানীয়দের মতে, বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি সরাসরি প্রভাব ফেলেছে টিকিট বিক্রিতে। তার ওপর ইডেন গার্ডেন্সে ভারতের কোনো ম্যাচ না থাকায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। কলকাতার ক্রিকেটের নন্দনকানন হিসেবে পরিচিত এই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকলেও মাঠের বাইরের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।
টিকিট কিনতে আসা দর্শকদের চোখে-মুখে হতাশা স্পষ্ট। এক ক্রিকেটপ্রেমী বলেন, “এত বড় বিশ্বকাপ হচ্ছে, অথচ এখানে ভারতের কোনো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচই নেই। এটা খুবই দুঃখজনক।” আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “খেলার সঙ্গে রাজনীতি মেশানো উচিত নয়, কিন্তু বাস্তবে সেটা হচ্ছেই।”
মোস্তাফিজ ইস্যু ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন কেবল ক্রিকেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; তা পৌঁছেছে কূটনৈতিক স্তরেও। কেউ কেউ মনে করছেন, বাংলাদেশের বাদ পড়ার পেছনে কেবল ক্রিকেটীয় কারণ নয়, দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনও বড় ভূমিকা রেখেছে। পাকিস্তানও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোয় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
অনেক কলকাতাবাসীই মনে করছেন, খেলাধুলার পরিবেশে ধর্ম ও রাজনীতিকে টেনে আনা অগ্রহণযোগ্য। তাদের ভাষায়, “ক্রিকেটকে ক্রিকেট হিসেবেই দেখা উচিত।” কিন্তু বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশহীন বিশ্বকাপ আর ভারতীয় ম্যাচহীন ইডেন—এই দুই মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, ক্রিকেট কি এখনো শুধু খেলা, নাকি ধীরে ধীরে রাজনীতির ময়দান হয়ে উঠছে?
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগের দিন ইডেন গার্ডেন্সের চারপাশে যে উচ্ছ্বাস থাকার কথা, তা চোখে পড়ছে না। ফাঁকা টিকিট কাউন্টার আর নীরব গেটগুলো যেন সেই কথাই বলছে। এখন দেখার বিষয়, উদ্বোধনী ম্যাচে কত শতাংশ দর্শক উপস্থিতি নিয়ে আইসিসি এই মহাযজ্ঞ শুরু করতে পারে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.