যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা শুরুর ঠিক আগেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন করল ইরান। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) তাদের নতুন ও উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহর-৪’ প্রকাশ্যে প্রদর্শন করে এবং এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের ভিডিও প্রচার করে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই আজ সকালে ওমানের রাজধানী মাসকটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনায় ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জারেড কুশনার।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানে আলোচনা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনীর প্রধান মাজিদ মুসাভির উপস্থিতিতে একটি নতুন ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ উদ্বোধন করা হয়। সেখানেই প্রদর্শন করা হয় খোররামশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্র।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, খোররামশাহর-৪ ইরানের অন্যতম উন্নত দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এর পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার এবং এটি প্রায় ১ হাজার ৫০০ কেজি ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম।
আইআরজিসির রাজনৈতিক উপপ্রধান ইয়াদোল্লাহ জাভানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন,
‘আলোচনার টেবিলে বসা মানে সামরিক শক্তি থেকে সরে আসা নয়। আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু প্রতিপক্ষ যদি ভুল করে, তাহলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’
ইরানি গণমাধ্যমগুলোর দাবি, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন ইরানের সামরিক নীতিতে এক ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাদের মতে, ইরান এখন কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ও বাইরের শক্তিগুলোর প্রতি শক্ত বার্তা দেওয়া হলো।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শক্তি প্রদর্শনের সময় নির্বাচনও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক বাহিনী ও সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন আলোচনায় ইরানের কৌশলগত অবস্থান আরও জোরালো করতে পারে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.