ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকাজুড়ে আজ ভোর থেকে ইসরায়েলি সামরিক হামলায় অন্তত ১৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু রয়েছে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও মানবিক সংস্থাগুলোর সূত্রে জানা গেছে। নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।
এদিকে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (PRCS) মুখপাত্র জানিয়েছেন, আজ সকালে সংস্থাটিকে জানানো হয়েছে যে রাফাহ ক্রসিং দিয়ে রোগী ও আহতদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম আজকের জন্য বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে গুরুতর আহত রোগীদের জরুরি চিকিৎসার সুযোগ আরও সীমিত হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মানবিক সহায়তা প্রবেশেও বাড়তি সংকট দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় এক তরুণ ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, অভিযানের সময় ওই যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পশ্চিম তীরেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অভিযান ও সহিংসতা বেড়েছে, যার ফলে সেখানে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭১ হাজার ৮০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৫ জনের বেশি। নিহতদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সংঘটিত হামলায় আনুমানিক ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় গাজায় মানবিক সংকট দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে ওষুধ ও জ্বালানির ঘাটতি, আহতদের চিকিৎসার অপ্রতুল ব্যবস্থা এবং সীমান্ত দিয়ে রোগী সরিয়ে নেওয়ার বাধা—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জোরালো হলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে সহিংসতা থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.