টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট নয়, কেবল ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় পিসিবি। তবে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ মনে করেন, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত বদলেও যেতে পারে।
রোববার পাকিস্তান সরকারের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়,
“পাকিস্তান ইসলামিক রিপাবলিকের সরকার আইসিসি বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ২০২৬-এ অংশগ্রহণের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে অনুমোদন দিয়েছে।”
তবে একই ঘোষণায় জানানো হয়,
“আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দল মাঠে নামবে না।”
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রশিদ লতিফ বলেন, পাকিস্তানের এমন অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন,
“ভারত বা পাকিস্তান যেখানেই খেলা হোক না কেন, বিশ্বকাপের দর্শকের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ টুর্নামেন্টটি দেখে শুধুমাত্র ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের কারণে। এই ম্যাচ না হলে পুরো টুর্নামেন্টের আকর্ষণই অনেকটা কমে যাবে।”
তবে লতিফ এখনই পরিস্থিতিকে চূড়ান্ত বলে মানতে নারাজ। তাঁর মতে, কূটনৈতিক তৎপরতা শেষ মুহূর্তে দৃশ্যপট বদলে দিতে পারে।
তিনি বলেন,
“সবসময়ই পর্দার আড়ালে কূটনীতি চলে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় অনেক কিছুই ঘটতে পারে। সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ এখনও রয়েছে। কিন্তু যদি কোনো সমাধান না আসে, তাহলে এটি বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য একটি বড় বিপর্যয় হবে।”
বাংলাদেশ প্রসঙ্গকেও এই সংকটের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখছেন রশিদ লতিফ। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“সবকিছুই মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে চলছিল। ভারত ও পাকিস্তান—দুই দেশই সম্মত হয়েছিল যে আগামী তিন বছর হাইব্রিড মডেলে খেলবে। সেই মডেলেই দুবাইয়ে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে, এমনকি শ্রীলঙ্কায় নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের নারী দল অংশ নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“কিন্তু বাংলাদেশের ঘটনার পর থেকেই পুরো পরিস্থিতি বদলে গেছে। ওই ঘটনার প্রভাবেই আজ এই সিদ্ধান্ত পর্যন্ত আসতে হয়েছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই অবস্থান শুধু রাজনৈতিক নয়, ক্রিকেটের বাণিজ্যিক দিক থেকেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই টিভি রেটিং, স্পনসরশিপ এবং বৈশ্বিক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। ফলে শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই তাকিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.