দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ ও তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন একই আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিট আবেদন দাখিল করা হয়। রিটে ঢাকা-১১ আসনে ড. এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
নাহিদ ইসলামের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা জানান, চলতি সপ্তাহেই হাইকোর্টে রিটের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ঢাকা-১১ আসনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং বিএনপি প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুমের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন।
তবে ড. এমএ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে রিপাবলিক অব ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং সেখানে সম্পত্তি ও বিনিয়োগ থাকার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।
এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে গত ১৯ জানুয়ারি দেওয়া এক বিবৃতিতে ড. এমএ কাইয়ুম বলেন,
“সোশ্যাল মিডিয়ায় গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে যে আমি ভানুয়াতু নামের একটি দেশের নাগরিক এবং সেখানে আমার বাড়ি বা বিনিয়োগ রয়েছে। এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কখনো ভানুয়াতুতে যাইনি এবং অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব নেওয়ার আকাঙ্ক্ষাও আমার কখনো ছিল না।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত পাসপোর্ট বা ডকুমেন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইন্টারনেটে প্রচারিত যেসব কাগজপত্রের ছবি ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলোর স্বাক্ষর তার প্রকৃত স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল নেই এবং সেগুলো সম্পূর্ণ জাল।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ড. এমএ কাইয়ুম বলেন,
“আমাদের প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কখনও বলা হচ্ছে আমি ভানুয়াতুতে বড় বিনিয়োগকারী, কখনও বলা হচ্ছে সেখানে আমার সম্পত্তি রয়েছে। বাস্তবে এসবের কোনো সত্যতা নেই।”
তিনি আরও বলেন, তিনি সবসময় সত্য যাচাইয়ের পক্ষে এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে। নির্বাচিত হলে রাজনীতিতে মিথ্যাচারের সংস্কৃতি বন্ধ করতে কাজ করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। ফলে তিনি ওই আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। ওই আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শুরুতে রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করলেও এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর ঋণখেলাপির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বাতিল করে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে ২১ জানুয়ারি তা সরাসরি খারিজ হয়। পরে তিনি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। গত ২৯ জানুয়ারি শুনানি শেষে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগ তার রায় ঘোষণা করে।
ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থীতা নিয়ে চলমান এই আইনি লড়াই নির্বাচনী মাঠে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এখন হাইকোর্টের রিটের শুনানির দিকেই তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক মহল।