ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তবে তা শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং পুরো অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। রোববার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
খামেনি বলেন,
“আমেরিকার জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার সেটি হবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।”
তিনি সাম্প্রতিক মার্কিন হুমকিগুলোকে নতুন কিছু নয় বলে উড়িয়ে দেন। খামেনির দাবি, অতীতেও মার্কিন কর্মকর্তারা যুদ্ধের কথা বলেছেন এবং বিমানবাহী রণতরী ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের প্রসঙ্গ তুলেছেন। তারা প্রায়ই বলেন, ‘সব বিকল্প খোলা রয়েছে’, যার মধ্যে সামরিক পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দিকেও ইঙ্গিত করে খামেনি বলেন, ট্রাম্প প্রায়ই বলেন যুক্তরাষ্ট্র জাহাজ মোতায়েন করেছে, কিন্তু এসব বক্তব্যে ইরানি জনগণ ভয় পায় না।
তিনি বলেন,
“ইরানি জনগণ এসব হুমকিতে প্রভাবিত হয় না এবং মার্কিন সামরিক শক্তি প্রদর্শনে তারা আতঙ্কিত হবে না।”
খামেনি আরও বলেন, ইরান কোনো দেশকে আক্রমণ করতে চায় না এবং সংঘাত শুরু করতেও আগ্রহী নয়। তবে কেউ আক্রমণ বা উসকানি দিলে ইরান শক্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে।
তার ভাষায়,
“আমরা কাউকে আক্রমণ করতে চাই না, কিন্তু কেউ আঘাত করলে ইরানি জাতি কঠোর জবাব দেবে।”
একই বক্তব্যে তিনি ইরানের সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতিকে ‘অভ্যুত্থানের মতো ষড়যন্ত্র’ বলে উল্লেখ করেন।
খামেনির দাবি,
“সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলা ছিল একটি অভ্যুত্থানের মতো।”
তিনি বলেন, এসব ঘটনার লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করা। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা পুলিশ, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিপ্লবী গার্ডের ঘাঁটি, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা চালিয়েছে এবং কোরআন শরিফে আগুন দিয়েছে।
খামেনি বলেন,
“তারা দেশের পরিচালনাকারী কেন্দ্রগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল।”