যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নতুন তদন্ত নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম একটি রেফারেন্সে উল্লেখ হওয়ার পর বিষয়টি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত যেসব ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় জানায়—নথিতে ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফরের তথ্য ছাড়া অন্য যে সব ইঙ্গিত বা প্রসঙ্গ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন,
“তথাকথিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এর একটি ইমেইলে প্রধানমন্ত্রীর নাম এবং তার ইসরায়েল সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ থাকার বিষয়ে আমরা সংবাদ দেখেছি। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরের বিষয়টি ছাড়া বাকি সব ইঙ্গিত একজন দণ্ডিত অপরাধীর জঘন্য প্রলাপ ছাড়া আর কিছু নয়। এসব দাবি চরম অবজ্ঞার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করা উচিত।”
২০১৭ সালের জুলাইয়ে নরেন্দ্র মোদির ইসরায়েল সফর ছিল ঐতিহাসিক গুরুত্বের। ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর এটিই ছিল কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ইসরায়েল সফর। ওই সফরের মাধ্যমে ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার হয়।
ভারত সরকারের এই প্রতিক্রিয়া আসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন–সংক্রান্ত তদন্ত নথির বড় একটি অংশ প্রকাশ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। নতুন আইন অনুযায়ী, মার্কিন সরকার এপস্টেইনের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন শোষণসংক্রান্ত অপরাধ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিষয়ে কী জানত, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে বাধ্য হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানিয়েছেন, সর্বশেষ প্রকাশনায় ৩০ লাখের বেশি পৃষ্ঠা নথি, ২ হাজারেরও বেশি ভিডিও এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এসব নথিতে গত ডিসেম্বরে প্রথম দফায় প্রকাশ না করা অনেক নতুন উপাদানও সংযোজিত হয়েছে।
‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ নামে প্রণীত আইনের আওতায় এসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক চাপ ও জনমতের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এই আইন পাস করে। এই আইনের আওতায় শুধু এপস্টেইনের নয়, তার দীর্ঘদিনের সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সংশ্লিষ্ট নথিও প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। ফেডারেল যৌন পাচার মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার মাত্র এক মাস পর তার মৃত্যু ঘটে। সরকারি তদন্তে এটি আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যদিও বিষয়টি নিয়ে তখন ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়।
ভারতীয় কর্মকর্তারা পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, নথিতে প্রধানমন্ত্রীর নাম একটি পার্শ্বিক রেফারেন্স হিসেবে এসেছে, যা কোনো ধরনের অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেয় না। ২০১৭ সালের কূটনৈতিক সফরের তথ্য ছাড়া বাকি সব দাবি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.