জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকারের সময় তাদের দুই শীর্ষ নেতা তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকেও পদত্যাগ করেননি—এর পেছনে উদ্দেশ্য ছিল অন্তত কিছু মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি থেকে রক্ষা করা এবং জনগণের আস্থা তৈরি করা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা-১২ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “দু–একজন নেতা প্রশ্ন তোলেন—আমরা যদি অসৎ হতাম, আর আপনারা সৎ হয়ে থাকেন, তাহলে কেন ছেড়ে গেলেন না? আমরা ছেড়ে যাইনি এই কারণে—অন্তত তিনটা মন্ত্রণালয় যেন বেঁচে থাকে, দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা পায় এবং বাংলাদেশের মানুষের মনে আস্থা তৈরি হয়।”
তিনি দাবি করেন, জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী ও সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ বিএনপি সরকারের সময় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহে এক নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ২০০১–২০০৬ মেয়াদে জামায়াতের দুই নেতা সরকারে ছিলেন এবং তারা পদত্যাগ করেননি, কারণ তারা জানতেন খালেদা জিয়া কঠোরভাবে দুর্নীতি দমন করছেন। তার এই বক্তব্যের জবাবেই শফিকুর রহমান এ মন্তব্য করেন।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “আমি রাজনীতি করব, আমি চাঁদাবাজিও করব, কিন্তু আমাকে চাঁদাবাজ বলবেন না—এটা হতে পারে না। আপনি যখন চাঁদাবাজি করবেন, তখন আপনাকে চাঁদাবাজই বলা হবে।” তিনি কৃষক, পরিবহন মালিক, পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর চাঁদাবাজির চাপের কথা তুলে ধরে সারা দেশের ব্যবসায়ীদের এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতসহ ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ক্ষমতায় গেলে নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশের চিত্র বদলে যাবে। “৯০ শতাংশ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে। বাকি ১০ শতাংশকে প্রথমে সতর্ক করা হবে, না মানলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখানে কে কার আত্মীয়—তা দেখা হবে না।”
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, “চারদিকে মন্দ আলামত দেখা যাচ্ছে—মা-বোনদের গায়ে হাত তোলা হচ্ছে, মানুষ খুন হচ্ছে, অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে।”
এ জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় ব্যর্থতার দায়ভার তাদেরই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।
সমাবেশে তিনি ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।