স্পেনে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসন প্রত্যাশীকে বৈধতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশিও রয়েছেন। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী এপ্রিল মাসে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত চলতে পারে।
ইউরোপের অনেক দেশ যখন অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তখন সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটছে স্পেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২৬ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার পর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে,
যেসব অভিবাসন প্রত্যাশী গত বছরের ৩১ ডিসেম্বরের আগে থেকেই স্পেনে অবস্থান করছেন এবং অন্তত পাঁচ মাস ধারাবাহিকভাবে থাকার প্রমাণ দেখাতে পারবেন, তারা দ্রুত বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ পাবেন।
আগামী এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ৩০ জুন পর্যন্ত আবেদন গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই নতুন নিয়মের ফলে ১৫ থেকে ২০ হাজার বাংলাদেশি সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। বৈধতার মাধ্যমে তারা—
পর্যটন, কৃষি ও খুচরা ব্যবসা খাতে আইনসম্মত শ্রম চুক্তি করতে পারবেন,
পাবেন সরকারি স্বাস্থ্যসেবা,
এবং নির্বিঘ্নে দেশে যাতায়াতের সুযোগ লাভ করবেন।
স্পেন সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। অনেকেই এটিকে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে স্পেনের অর্থনৈতিক বাস্তবতা। দেশটির অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বিপুল শ্রমশক্তির প্রয়োজন। প্রায় ৫ লাখ মানুষকে বৈধতা দিলে বছরে আনুমানিক ২০০ কোটি ইউরো কর ও সামাজিক নিরাপত্তা অনুদান সরকারি কোষাগারে যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, স্পেন সরকারের এই পদক্ষেপ অভিবাসীদের জন্য যেমন নতুন আশার দুয়ার খুলেছে, তেমনি দেশটির অর্থনীতির জন্যও এটি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।