1. arshinagargroup75@gmail.com : ratul :
  2. abclimited2020@gmail.com : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD) : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD)
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

ঢাকা–কক্সবাজার রুটে রেলযাত্রায় বড় সুখবর: নতুন বাইপাসে সাশ্রয় হবে দেড় ঘণ্টা

নিউজডেস্ক
  • Update Time : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩২ Time View

ঢাকা–কক্সবাজার রুটে রেলযাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী হয়ে ঝাউতলা পর্যন্ত একটি নতুন বাইপাস রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ডুয়েল লাইন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই বাইপাস চালু হলে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ট্রেনের ইঞ্জিন ঘোরানোর (রিভার্সিং) ঝামেলা আর থাকবে না। ফলে ট্রেনগুলো সরাসরি কক্সবাজারে পৌঁছাতে পারবে, এতে যাত্রীদের ৪৫ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত সময় সাশ্রয় হবে।

গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার ও উল্টো পথে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ নামে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে। সড়কপথের যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়িয়ে নির্বিঘ্ন যাতায়াতের কারণে এই ট্রেনগুলো ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনে ইঞ্জিন ঘোরানোর কারণে প্রতিবারই কমপক্ষে ৪৫ মিনিট সময় নষ্ট হয়।

রেল সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে আসা সব ট্রেন প্রথমে পাহাড়তলীতে পৌঁছে কদমতলী হয়ে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে আসে। এরপর ইঞ্জিন ঘুরিয়ে ঝাউতলা হয়ে কালুরঘাট ব্রিজের দিকে যেতে হয়।
এই পুরো প্রক্রিয়ায়—

  • পাহাড়তলী থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনে আসতে লাগে প্রায় ১০ মিনিট,

  • ইঞ্জিন রিভার্সিং ও কার্টেলিংয়ে লাগে আরও ২০ মিনিট,

  • সব মিলিয়ে অন্তত ৪৫ মিনিট সময় ব্যয় হয়।

বর্তমানে ১৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেনযাত্রায় সময় লাগে প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। প্রতিদিন এই রুটে দুটি সরাসরি ও দুটি লোকাল ট্রেনে গড়ে ৮ হাজারের বেশি যাত্রী চলাচল করেন।

ঢাকা–কক্সবাজার রুটের লোকোমাস্টার এফ এম আবদুল আওয়াল বলেন,
“ঝাউতলা ও পাহাড়তলী হয়ে বাইপাস লাইন চালু হলে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারে যাওয়া সম্ভব হবে। এতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় বাঁচবে।”

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার আবু বকর সিদ্দিক জানান,
“বাইপাস হলে চট্টগ্রামে এসে ইঞ্জিন ঘোরানোর প্রয়োজন থাকবে না। সরাসরি নতুন লাইন ব্যবহার করে ট্রেন কক্সবাজার যাবে। এতে শুধু চট্টগ্রাম অংশেই প্রায় ৩০ মিনিট সময় সাশ্রয় হবে।”

রেলপথ মন্ত্রণালয় পাহাড়তলী থেকে ঝাউতলা পর্যন্ত নতুন বাইপাস লাইন নির্মাণের পাশাপাশি—

  • পাহাড়তলী, ষোলশহর ও ঝাউতলা এলাকায় নতুন স্টেশন ভবন,

  • আধুনিক সিবিআই সিগন্যাল ও ইন্টারলকিং ব্যবস্থা,

  • তিনটি স্থানে রেল ও সড়ক ক্রসিংয়ে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে।

বাইপাস চালু হলে চট্টগ্রামের যাত্রীরা পাহাড়তলী, ষোলশহর ও ঝাউতলা স্টেশন থেকেও ট্রেনে ওঠানামা করতে পারবেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. তানভীরুল ইসলাম বলেন,
“প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়া যাবে। চট্টগ্রামে ঢোকার প্রয়োজন হবে না। এতে সময় বাঁচবে এবং কয়েকটি স্টেশন ও সিগন্যালিং ব্যবস্থাও আধুনিক করা হবে।”

ঢাকা থেকে চলাচলকারী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেসের ক্ষেত্রে এই সময়ক্ষেপণ সমস্যা থাকলেও চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ছেড়ে যাওয়া প্রবাল এক্সপ্রেস ও শৈবাল এক্সপ্রেস এই জটিলতা থেকে মুক্ত রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাইপাস প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারগামী রেলযাত্রা হবে আরও দ্রুত, আরামদায়ক ও জনপ্রিয়—যা পর্যটন ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © arshinagar tv 2025
Design & Develop BY Coder Boss