যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা কারও জন্যই কল্যাণকর নয়।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে এই ফোনালাপ হয়। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে, যা তেহরানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব “হুমকি” মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই দেওয়া হচ্ছে এবং এর ফল হবে কেবল অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ ও বহিরাগত হস্তক্ষেপ ইরানের জনগণের মনোবল বা সচেতনতাকে দুর্বল করতে পারেনি। বরং এসব চাপ ইরানিদের আরও দৃঢ় করেছে।
ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতি সৌদি আরবের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে সংহতি অত্যন্ত জরুরি এবং ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন বা উত্তেজনা বৃদ্ধি সৌদি আরব সমর্থন করে না।
সৌদি প্রেস এজেন্সি (SPA) জানায়, যুবরাজ স্পষ্ট করে বলেছেন—
ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক হামলার জন্য সৌদি আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির যে কোনো উদ্যোগকে রিয়াদ সমর্থন করবে, যাতে পুরো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদার হয়।
‘প্রতিবেশীরা আমাদের বন্ধু, তবে সতর্কতা আছে’
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপপ্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ সতর্ক করে বলেন,
“প্রতিবেশী দেশগুলো আমাদের বন্ধু। তবে যদি তাদের মাটি, আকাশ বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেগুলোকে শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে।”
২০২৫ সালের জুনে ইসরাইল ইরানের সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পরে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় যোগ দেয়। ওই ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকেই নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক বক্তব্যে আবারও ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেন, “একটি বড় নৌবহর ইরানের দিকে যাচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে নিতে হবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে ইরানের মাথা নত করার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন,
“চাপের মুখে আপস করলে তা চাপ কমায় না, বরং আরও চাপ বাড়ায়।”
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানে হামলা হলে তার প্রভাব শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—পুরো অঞ্চলই এর পরিণতি ভোগ করবে।