আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল যদি কোনো সামরিক হামলা চালায়, তাহলে তার জবাব হবে আরও যন্ত্রণাদায়ক ও কঠোর—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালায়ি-নিক এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে কোনো আগ্রাসন হলে তা আগের চেয়ে আরও যন্ত্রণাদায়ক ও চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে।”
রেজা তালায়ি-নিক আরও জানান, গত বছরের জুন মাসে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় বর্তমানে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত।
তিনি বলেন,
“তারা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল) যদি কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে নিশ্চিতভাবেই আগের চেয়ে বেশি ব্যর্থ হবে এবং আরও বড় পরাজয়ের সম্মুখীন হবে।”
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরী পৌঁছানোর খবরের পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদেশি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ইরানের প্রতিরক্ষা অবস্থান কিংবা কূটনৈতিক নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনবে না।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন,
“আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা কখনো যুদ্ধকে স্বাগত জানাইনি, আবার কূটনীতি ও আলোচনার পথ থেকেও কখনো সরে আসিনি। বাস্তবে আমরা তা প্রমাণ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের সমর্থনে দেশ রক্ষায় ইরানের পূর্ণ ইচ্ছা ও সক্ষমতা রয়েছে। বিদেশি যুদ্ধজাহাজের প্রবেশ ইরানের প্রতিরক্ষা সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না।
ইসরাইলের চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে এবং ইরানের কাছাকাছি এলাকায় মোতায়েন রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহনকারী একটি যুদ্ধজাহাজ ইসরাইলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি ‘থাড’ (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে।