ইসরায়েল রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং আংশিকভাবে খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও এতে আশ্বস্ত নন ফিলিস্তিনিরা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির আওতায় শেষ বন্দির মরদেহ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে হামাসের সামরিক শাখা মধ্যস্থতাকারীদের কাছে “সম্ভাব্য অবস্থানের সব তথ্য” দিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কাফর আকাব শহরে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকটি ভবন খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে স্কুল ও কিন্ডারগার্টেনও রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানের নামে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, উত্তর গাজায় তারা একটি “টার্গেটেড অপারেশন” চালাচ্ছে। এর লক্ষ্য হলো নিখোঁজ ইসরায়েলি পুলিশ কর্মকর্তা রান গিভিলির মরদেহ উদ্ধার করা। সেনাবাহিনীর দাবি, সব গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, এই অভিযান শেষ হলে “রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়া হবে”, তবে তা হবে সীমিত আকারে এবং শুধু মানুষের যাতায়াতের জন্য। পণ্য পরিবহন বা বাণিজ্যিক চলাচলের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা এখনো দেওয়া হয়নি।
ফিলিস্তিনিদের আশঙ্কা, রাফাহ ক্রসিং আংশিক খুললেও তা মানবিক সংকট লাঘবে যথেষ্ট হবে না। কারণ গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট রয়েছে, আর শুধু মানুষের যাতায়াতের অনুমতি দিলে সেই সংকট কাটবে না।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের যুদ্ধ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ৪৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাব।
ফিলিস্তিনি বিশ্লেষকদের মতে, রাফাহ ক্রসিং খোলার ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।