ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, চীন ও ভারত হলো “ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু এবং অংশীদার”। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যখন বৈশ্বিক বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তখন দুই এশীয় শক্তির সম্পর্ক উন্নয়নের এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভারতের প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুকে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় শি বলেন, গত এক বছরে চীন-ভারত সম্পর্ক উন্নত ও বিকশিত হয়েছে, যা বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। সে ঘটনায় কয়েকজন চীনা সেনাও নিহত হন বলে জানা যায়। এরপর ভারত চীনা মালিকানাধীন টিকটকসহ কয়েকটি অ্যাপ নিষিদ্ধ করে এবং চীনা বিনিয়োগে বিধিনিষেধ আরোপ করে। তবে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও দুই দেশের বাণিজ্য অব্যাহত থাকে এবং তা বার্ষিক ১৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়।
গত বছর আগস্টে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করলে দিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় ফিরে বৈশ্বিক বাণিজ্যে শুল্কযুদ্ধ শুরু করলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ হারগুলোর একটি। অন্যদিকে চীনা পণ্যের ওপরও ৩০ শতাংশের বেশি শুল্ক বসানো হয়। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশ আবার সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়।
২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে প্রথমবারের মতো পাঁচ বছরে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদি। ওই বৈঠক থেকেই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শি তার বার্তায় চীন ও ভারতকে “ড্রাগন ও হাতির একসঙ্গে নাচ” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
যদিও সীমান্ত ইস্যু এখনও পুরোপুরি মীমাংসিত হয়নি, তবুও দুই দেশ সম্পর্ক উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। গত অক্টোবর পাঁচ বছর পর সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয় ভারত ও চীন। এছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে চীনা বিনিয়োগে আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।