1. arshinagargroup75@gmail.com : ratul :
  2. abclimited2020@gmail.com : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD) : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD)
শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

সাদ্দামের প্যারোল আবেদন ও মুক্তি না পাওয়ার কারণ জানাল জেলা প্রশাসন

নিউজডেস্ক
  • Update Time : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১২৭ Time View

বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী সন্তানের মৃত্যুর পর তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি কেন—এ নিয়ে দেশজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় বাগেরহাট ও যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হন সাদ্দাম। গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয় তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুসন্তান নাজিমের মরদেহ।

স্বজনদের ধারণা, মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী। তবে পরিবারের একাংশ বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দিতে পরিবারের পক্ষ থেকে সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয় বাগেরহাট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে দাফনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, প্যারোল সংক্রান্ত আবেদন পাওয়ার পর তিনি কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সাদ্দাম যেহেতু অন্য জেলায় (যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে) বন্দি, তাই বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের তার প্যারোল মঞ্জুর করার এখতিয়ার নেই।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের প্যারোল নীতিমালা অনুযায়ী, যে জেলায় বন্দি অবস্থান করেন, সেই জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটই প্যারোল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) যশোর জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে লিখিতভাবে প্যারোলের কোনো আবেদন করা হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা কর্তৃপক্ষ জেলগেটে মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেয়।

সাদ্দামের মামা মো. হেমায়েত উদ্দিন জানান, তারা বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে তাদের যশোর কারাগারে আবেদন করতে বলা হয়। পরে মরদেহ নিয়ে যশোর গেলে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।

স্বর্ণালীর বাবা শেখ রুহুল আমিন বলেন, তিনি কাউকে দোষ দিতে চান না, তবে প্রশাসনের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান।

স্বর্ণালীর ভাই শাহনাজ আমিন শুভ বলেন, তার বোন এমন কাজ করতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তিনি জানান, বাড়িতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলে প্রকৃত ঘটনা জানা যেতে পারে।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান চৌধুরী জানান, দুটি পৃথক মামলা হয়েছে—একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এবং আরেকটি গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যুর ঘটনায়। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে জানাজা শেষে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে কানিজ সুবর্ণা ও তার শিশুসন্তানকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। এ সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © arshinagar tv 2025
Design & Develop BY Coder Boss